বিবাহ

লেখক: লি ওয়েন উয়ান

আজ দু’তিনদিন ধরে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি চলেছে, কখনো খুব ঘন, কখনো বা হালকা কিন্তু আগাগোড়াই, মাঠে কাজ করার থেকে গ্রামবাসীদের দূরে রাখার পক্ষে সে বৃষ্টি যথেষ্ট। তারা সব অস্থির হয়ে উঠছে।

বৃষ্টিবহুল দিনগুলোর জন্য লিয়েন-নিউ যে অবকাশটুকু পেয়েছিল সেটুকু সে একজোড়া জুতো বানানোর কাজে লাগিয়েছিল।

সকালে মেঘের ফাঁক দিয়ে সূর্য উকি মারলো। বৃষ্টির পরে সব কিছু যেন আরো ঝকঝকে লাগছিল মেয়ে-পুরুষ সকলের মন সজীব, উৎফুল্ল হয়ে উঠলো।

মাঝের ঘরের একটা নিচু চেয়ারে বসে লিয়েন-নিউ জুতোজোড়াটার গায়ে সস্নেহে হাত বোলাচ্ছিল। জুতোজোড়াটা বেশ ভালোই হয়েছে। মনের মধ্যেটা তার কেমন একটা আনন্দে ভরে উঠলো। মনে মনে ভাবছিল সে, “আকাশটা পরিষ্কার হয়ে আসছে, জুতোজোড়াও তৈরি হয়ে গেলো। আবার যখন ও মাঠে কাজ করতে যাবে তখন পায়ে ওটা পরতে পারবে অন্তত।” এই কথা ভাবতে ভাবতে তার মনের মধ্যে বলিষ্ঠ এক যুবার চেহারা ভেসে উঠলো। পায়ে তার মজবুত করে বানানো জুতোজোড়া; লম্বা লম্বা পা ফেলে ফেলে চলেছে মাথা উঁচু করে, অসাধারণ মর্যাদায় ভরা সে চেহারা। তার ঠোঁটের কোণায় মৃদু একটা হাসি খেলে গেলো। হাসিটুকু ফুটতে না ফুটতেই ও নিচের ঠোঁট কামড়ে ধরলো। যেন ভয় পেলো কেউ যদি তার মনের গোপন কথাটি জানতে পেবে যায়, আপনা থেকেই সে তাকালো বাড়ির একেবারে শেষের ঘরের দিকে-তার মার দিকে—সকলেই তাকে ইউয়ান মা বলে। মা জল রাখার পাত্র ধুচ্ছে দেখে তার চমক ভাঙলো, তখনি তার খেয়াল হলো দুপুরের রান্নার সময় হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি তার সেলাইয়ের থলির মধ্যে জুতো জোড়াটা গুঁজে রেখে, পরনের নীল রঙের সুতোর পোশাকের গায়ে লেগে থাকা সুতোর টুকরোগুলো ঝেড়ে ফেলে দিলো।

“জুতোটা শেষ করেই যাচ্ছিলাম জল আনতে” সে হেঁকে বললো।

“বাইরে ভীষণ কাদা”, ইউয়ান মা বললো, “দু’এক বালতি শুধু। তাহলেই কাজ চলে যাবে।”

“ঠিক আছে।” উত্তর দিতে দিতে সে তার রবারের বুটজোড়া পরে নিয়ে বালতি ঝোলানো বাঁকের ডাণ্ডাটা কাঁধের ওপর তুলে নিলো। মাথা ঝাঁকিয়ে নীল ফিতে বাঁধা লম্বা লম্বা বিনুনী দুটো পিছনে সরিয়ে দিয়ে সে বেরিয়ে পড়লো।

পাঁচিলের কোনটাতে আসতেই দেখলো উল্টোদিক থেকে আসছে উঁচু গালের হাড়, স্বাস্থোজ্জ্বল লালচে পায়ের রঙ, লম্বা এক যুবক, পিছলা মাটির ওপর দিয়ে কষ্ট করে চলার সময় শরীরটা তার এ পাশে ওপাশে হড়কে হড়কে যাচ্ছে। যুবকটি হলো চুং-সিয়াঙ, আসছিল সে লিয়েন নিউ এর বাড়ি, সেখান থেকে তার “হ্যান্ড বুক অব মিউচ্যুয়াল এড অ্যান্ড কো-অপারেশন” (পারস্পরিক সাহায্য ও সহযোগিতার উপর তথ্য পুস্তিকা) বইটা নিতে আর সেইসঙ্গে পরের দিন পোকা মারতে তুলোর খেতে যাবার কথা আছে সেই নিয়ে লিয়েন-নিউ-র সঙ্গে পরামর্শ করতে। কিন্তু আসল কথা হলো, ইদানীং যে কোন ছুতোয় লিয়েন-নিউ-এর ওখানে যেতে তার বেশ ভালো লাগছিল। এখন কোনাটা ঘুরতেই দুজনে দুজনের মুখোমুখি হলো। আশেপাশে কেউ কোথাও নেই দেখে চুং-সিয়াঙ চুপি চুপি বললো “বড্ড কাদা। আমি তোমার জল তুলে দিচ্ছি। তুমি বাড়ি গিয়ে আমার ‘হ্যান্ড বুক অব মিউচ্যুয়াল এড অ্যান্ড কো-অপারেশন’ বইটা নিয়ে এসো। আমি আর একবার ওটা পড়তে চাই।” কথা বলতে বলতে সে নিজের পায়ের দিকে তাকালো। “আমার বুটের দিকে একবার চেয়ে দেখো।” সে বলে চললো, “কাদায় একেবারে ভর্তি হয়ে গেছে। বালতি নিয়ে যেতে গেলে তুমি পড়ে যাবে।”

লিয়েন-নিউ বড় জেদী। কেউ যদি কখনো তাকে বলতো কোনো কাজ তার সাধ্যের অতিরিক্ত তাহলে সে ভীষণ চটে যেতো। “পথ ছাড়ো!” কিছুটা হেসে কিছুটা রাগতভাবে সে বললো। “আমি পারি কিনা তা দেখা যাবে তখন!” চুং সিয়াঙ একটু ইতস্তত করতেই, লিয়েন-নিউ তার পাশ কাটিয়ে

লেখাটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন

আকর্ষণীয় মূল্য

এক বছর

৪৯৯

এক মাস

৯৯
মেয়াদ শেষে নতুন দামে নতুন করে গ্রাহক হতে হবে

যোগাযোগ করতে

+৮৮ ০৯৬০৬০৩৩৩৯৩
রবিবার–বৃহস্পতি: সকাল ১০টা–সন্ধ্যা ৬টা (সরকারি ছুটিরদিন ব্যতীত) অথবা ভিজিট করুন FAQ

You Might Also Like

Comments

Leave A Comment

Don’t worry ! Your email address will not be published. Required fields are marked (*).


Get Newsletter

Featured News

Advertisement

Voting Poll (Checkbox)

Voting Poll (Radio)

Readers Opinion

Editors Choice